তারিখ

বৃহস্পতিবার, ২৪শে জুন, ২০২১ ইং, রাত ৮:৫৭, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

আল ইমরান মনু, চৌহালীঃসিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও আবাদ কমেছে ২০ হেক্টর জমিতে। চৌহালী উপজেলা বন্যাদুর্গত, যমুনা নদীর ব্যপক ভাঙন, সঠিক দাম না পাওয়া ও দুর্গোম এলাকা হিসাবে এবার বোরো চাষ থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রতটি কৃষি মাঠে এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যাস্ত সময় পাড় করছে তারা। সবুজের সমারোহ কৃষি মাঠ এখন সেজেছে ফসল পাকা রঙে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে ফুটেছে প্রপ্তির হাসি। বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি কৃষি মাঠ কৃষকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। তারা জানায় বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে গোলা ভরা ধান আর খড় পালায় ছেয়ে যাবে প্রতিটি কৃষকের বাড়ী। চাষীরা বর্তমানে দু-নয়ন ভরে স্বপ্ন নিয়ে দিন গুনছেন সুষ্ঠভাবে যেন মাঠের ফসল ঘরে তুলতে পারেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবারে ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ২০২০/২১ অর্থ বছরে লক্ষমাত্রা ৩ হাজার ২২৫ হেক্টর।  অর্জিত লক্ষমাত্রা ৩ হাজার ২০৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ হেক্টর জমি কম চাষ হয়েছে। স্থানীয় জাত যেমন সাদা বোরো, কালি বোরো সর্বমোট ১ হাজার ২৭৫ হেক্টর চাষাবাদ হয়েছে। গড় ফলন ২.৮৫ মেট্রিক টন, এরমধ্যে প্রায় ৯৫% স্থানীয় জাত কর্তন হয়েছে। ফলন পাওয়া গেছে প্রতি বিঘায় ১২ মন। উপশী জাত  যেমন,  ব্রী-ধান ২৮, ২৯, ৫০, ৫৮, ৮১ ও ৮৯ চাষাবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমি, গড় ফলন ৬.৩৮ মেট্রিক টন, হাইব্রীড চাষাবাদ হয়েছে ৪০ হেক্টর গড় ফলন ৭.৩৫ মেট্রিক টন, এগুলো আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে কর্তন শেষ হবে। ফলন প্রতি বিঘায় ২২ থেকে ২৪ মন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। গভীর নলকূপের আওয়তায় সেচের পানি ব্যবহার করে চাষীরা সঠিক নিয়ম অনুসারে সেচে সুফল পাচ্ছেন। এছাড়া চলতি মৌসুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং) এর অভিযোগ খুবই কম ছিলো। এদিকে উপজেলার ডিলারদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমান ডিজেল ও সার পাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ার কারণ বলে মনে করে তারা। উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের কৃষক মো: সাইফুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে আমরা বোরো ধান চাষ কম করেছি, এর প্রধান কারন যমুনা নদীর ভাঙন। ধানের ন্যায্যমুল্য ও নদী ভাঙন কম থাকলে আগামী বছর বেশি করে আবাদ করার আশা ব্যক্ত করেন তিনি। উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো: ইকবাল হোসেন জানান, কৃষকরা গত বছরের চেয়ে চাষাবাদ কম করেছে কারন যমুনা নদীতে ফসলি জমি ভেঙ্গে গেছে  এবং ধানের ন্যায্যমূল্য পায়নি তারপরও এ বছর ধানের ফলন বেড়েছে। এ বছর দাম ভালো পেলে আশা করি আগামী বছর চাষাবাদ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ শীলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখি ঝড়ের কারনে কিছু জমির ধান পরে গিয়ে নষ্ট হয়েছে।  তা না হলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতো বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আগামী বছর যাতে আরও উচ্চ ফলন পায় সে বিষয়ে চাষীদের নানা ভাবে কৃষি তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করে আসছি আমরা। চৌহালী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জেরিন আহমেদ বলেন, উপজেলায় এ বছর কোন শ্রমিক সংকট নেই। উল্টো চৌহালী থেকে দেশের বিভিন্ন হাওড় অঞ্চলে ৩ হাজার শ্রমিক কৃষি বিভাগের উদ্যোগে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে থেকে কৃষকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবং শ্রমিক সংকট না থাকায় বরাবরের মত চৌহালীতে এবারও বাম্পার ফলনের আশা  করেন তিনি।
(Visited 1 times, 1 visits today)

বার্তা সম্পাদক

আশিকুর রহমান শ্রাবণ

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: