তারিখ

মঙ্গলবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং, রাত ৮:২০, ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

মোঃ আবু মুসা–জয়পুরহাট জেলায় এবার ১১হাজার ৩০হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির সরিষা চাষ করা হয়েছে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় স্থানীয় কৃষকরা এবার সরিষার বাম্পার ফলন আশা করছে। ইতিমধ্যে জেলার মাঠ গুলো সরিষার হলুদ ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে। শস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত এবং খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা জয়পুরহাটের আবাদী জমি, মাঠ-প্রান্তর এখন হলুদ বর্ণে সেজেছে। পৌষের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষা ফুল আর গুঞ্জন তুলে এই ফুলের রাজ্যে উড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছির দল। বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির মেলবন্ধনের হাসি। লাভজনক অবস্থানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক।চলতি মৌসুমী জয়পুরহাট জেলায় ১১ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এরমধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৩ তিন হাজার৬ ছয়শত ৫০ হেক্টর পাঁচবিবি উপজেলায় ৪ চার হাজার৮ আটশত৭০ হেক্টর কালাই উপজেলা ৩০০ হেক্টর ক্ষেতলাল উপজেলা ৯ শত ১০ হেক্টর আক্কেলপুর উপজেলার ১ হাজার ৩শত হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। গত বছর স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে চাষিদের আগ্রহ বেশি।স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, আমন ধান কাটার পর জমি তৈরি করে সরিষা বীজ বোপণ করা হয়। দুই মাসের মধ্যে ফলন ঘরে তোলা যায়। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ১ হাজার থেকে ১৩শ’ টাকা। প্রতি বিঘায় ৫থেকে ৬ মণ সরিষা পাওয়া যায়। যা বর্তমানে প্রতিমণ সরিষার বাজার দর ১৪থেকে ১৮ হাজার টাকা। জেলার কৃষকরা এবার উন্নত জাতের বারি ১৪ বারি১৮ বারি ১৫ বেলা ৪বেলা ৯ এবং বারি ১৭ জাতের সরিষা চাষ করেছে।জয়পুরহাট সদর উপজেলা হালট্রি গ্রামের কৃষক সুলতান মাহমুদ এবং পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, আমন ধান কাটার পর পড়ে থাকা জমিতে প্রতি বছরই আমরা সরিষা চাষ করি। এবার শরিষার গাছ যেমন ভালো হয়েছে তেমনি ফুলও খুব ভালো হয়েছোগামীতে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের শিবসমুদ্র গ্রামের কৃষক লিয়াকৎ হোসেন, ক্ষেতলাল উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের ঝামুটপুর গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন এবং আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালি ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের আক্কাস আলী বলেন, সরিষা কাটা-মাড়াই শেষে বাজারে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আমরা আবার বোরো ধানের আবাদ করি।বোরো ধান আবাদ করতে অতিরিক্ত কোন টাকাও লাগেনা জমিতে তেমন কোন সার দিতে হয় না এক কথায় বলতে গেলে এটা আমাদের জন্য একটা অতিরক্ত ফসল।জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ ম মেফতাহুল বারী বলেন সরিষা চাষের জন্য এবারের আবহাওয়া অত্যন্ত ভালো মাঠে কোন আশা নেই রোদের তীব্রতা রয়েছে ফলে সরিষায় তেমন কোনো রোগ বালাই দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত সরিষার গাছ এবং ফুল অত্যান্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় সরিষার চাষও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরিষা চাষ আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে স্থানীয় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সহযোগিতা করা হয়েছে।বিনামূল্যে ডিএপি, এমওপি, পটাশ, ইউরিয়া পটাশ সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

বার্তা সম্পাদক

আশিকুর রহমান শ্রাবণ

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: