তারিখ

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ ইং, রাত ১১:২৯, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

এম আর অভি, বরগুনা: বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় প্রত্যাক্ষাণ করেছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন । (৩০ সেপ্টম্বর) বুধবার জড়াজির্ণ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আলোচিত এই হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির পূর্ণাঙ্গ রায় মিন্নিসহ ৬ আসামির ফাঁসি ও ৪ জনের খালাসের দন্ড ঘোষনা হয়। পরে আদালত প্রাঙ্গনে মিন্নির বাবা সাংবাদিকদের জানান, আমি ন্যায় বিচার পাইনি। এ রায় বিরুদ্ধে আমি উচ্চ আদালতে যাব । এ সময় মিন্নির আইনজীবি মাহবুবুল বারী আসলাম আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার মক্কেলকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
গত বছর ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি বিশ্ব-বিদ্যালয় কলেজের মূল গেটে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির উপস্থিতিতে নয়ন বন্ড , রিফাত ও রিশান ফরাজীসহ কয়েক যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। রিফাত শরীফকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে তারা চলে যায়। রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজ বুকে ভাইরাল হলে বিশ্ব বিবেককে নাড়া দেয়। সদর থানার ২ কিলো মিটারের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকারের ভিতে কুঠার আঘাত করার মত। পরে সমালোচনার মুখে স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। এ ঘটনায় নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ পরের দিন ২৭জুন ১২ জনসহ অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির আহম্মেদ নয়ন(২৫) বন্ড ঔই বছরের (২ জুলাই )পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। (১৮ জুলাই ) এ হত্যা মামলার তৃতীয় আসামি রিশান ফারাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং (১৬ জুলাই) মিন্নিকে পুলিশ আটক করে।
আলোচিত এই হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির পক্ষে-বিপক্ষে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর (১৬ সেপ্টেম্বর) বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো.আছাদুজ্জামান মিয়া এ রায়ের দিন ধার্য করেন।
ঔই বছরের (১ সেপ্টেম্বর) রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুই ভাগে (প্রাপ্ত-অ প্রাপ্ত বয়স্ক) বিভক্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। তাছাড়া এ মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা পলাতক রয়েছেন ।
রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গত (১ জানুয়ারি ) চার্জগঠন করা হয়। ৮ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহন শুরু হয়ে ৭৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে। এ দিকে (৬ সেপ্ট¤া^র )রোববার মিন্নির যুক্তিতর্কের মাধ্যমে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মিন্নিকে র্নিদোষ প্রমাণের যুক্তি তুলে ধরতে ঢাকা থেকে বরগুনা আসেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ফারুক হোসেন।
রিফাত হত্যা মামলায় ফাঁসিরদন্ড প্রাপ্তরা হলেন ১.রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজী, ২.আল-কাইউম ওরফ্ েরাব্বি আকন, ৩.মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৪.রেজওয়ান আলী খান হ্রদয় ওরফে টিকটক হ্রদয় ৫.মো. হাসান,৬ .আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি এবং খালাস প্রাপ্তরা হলেন- রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম সাইমুন ও মুছা। এদের মধ্যে আসামি মুছা বন্ড (২২) পলাতক রয়েছে। এই হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষনার পূর্ব মূহূর্তে আদালতে আসামীরা স্বাভাবিক ছিলেন। কিন্তু রায় ঘোষনার পরপর কোন কোন আসামী আদালতে এ কে অপরকে জরিয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। তবে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি অবিচল তাকিয়ে ছিলেন। অন্য দিকে খালাস প্রাপ্তরা উল্লাস করেন।
এ মামলার অন্যতম ফাঁসির আসামি মিন্নিকে ঐ দিনই পুলিশ হেফাজতে নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ হত্যা মামলার রায় মিন্নিসহ ছয় আসামিকে ফাঁসি ও চার জনকে খালাস দিয়েছে আদালত। এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
আদালতে এ রায়ের পর্যবেক্ষনে বিচারক একটি কথাই বলেছেন যে,এই হামলা মধ্য যুগীয় পৈচাশিক বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এ মামলার রায় এর বিশেষ বিশেষ দিক আদালতে পড়ে শোনানো হয়। এ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক অন্যতম আসামী মুছা বন্ড (২২) অনু-উপস্থিতিত সহ ১০ আসামির মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৯ আসামি ও উভয়পক্ষের আইনজীবিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষনা করেন ।
এ রায়ে বরগুনার সুশিল সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা এ রায়কে যুগান্তকারী রায় বলে অভিহিত করেছেন।এ দিকে একটি ছোট শহরে বড় ঘটনা হওয়ায় এ রায়কে ঘিরে সকাল থেকে আসামীদের স্বজনেরা ও হাজার হাজার উৎসুক জনতা আদালত প্রাঙ্গনে ভীর জমায়। তারা সাংবাদিকদের বলেন, কঠোর বিচার হওয়ায় সমাজে আর এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না। অপরাধীরা বুজবে অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না। যারা মাদক বিক্রি করে ও নেশা করে তারাই সমাজে এ ধরনে ঘটনা ঘটায়। মাদক মুক্ত সমাজ গঠন করতে হবে।
এ রায়ে ন্যায় বিচার পেয়েছেন এমনটি দাবী করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ । আমি আমার পুত্র হত্যার বিচার পেয়েছি , আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি, আলোচিত এই হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এমন প্রতিক্রিয়া জানতে গিয়ে নিহত রিফাত শরীফের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল কান্নায় জড়িত কন্ঠে এ সব কথা বলেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এ্যাড.গোলাম মোস্তফা কাদের প্রতিবেদকে জানান, দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে ওঠেন। মিন্নিসহ ৬ আসামির ফাঁসি ও ৪ জনের খালাসের দন্ড ছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো.আছাদুজ্জামান এ মামলার রায় এর বিশেষ বিশেষ দিক আদালতে পড়ে শোনানো হয় এমনটি নিশ্চিত করেছেন।
আলোচিত এই হত্যা মামলার রায় ঘোষনাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গনে পুলিশ নিছিদ্র নিরাপত্তা দেয় । আদালত প্রাঙ্গনে ২শ৫০জন পুলিশ ছয় স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে। নিজ বাসা থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় মিন্নি তার বাবার সাথে মটর সাইকেলে আদালত প্রঙ্গণে আসে। দুপুর পৌন বারটায় কারাগার থেকে নিছিদ্র নিরাপত্তা প্রাপ্তবয়স্ক অন্য আসামিদের আদালতে আনা হয়। পরে রায় শেষে মিন্নিসহ অন্য আসামিদের কারাগার পাঠানো হয়েছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

বার্তা সম্পাদক

আশিকুর রহমান শ্রাবণ

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: