তারিখ

শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২০ ইং, সকাল ৬:৫৬, ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি–চারা রােপনের পর ধান দুধ চাপার আগ পর্যন্ত সব কিছুই ঠিক ছিল। কিন্তু ধান কলা পাঁকা হয়ে আসলে কৃষক দেখা যায় ধানে নেই পরিপক্ক দানা, আছে শুধুি চিটা। এভাবেই কথা গুলো বললেন কৃষক দীপক চদ্র রায়। তিনি এবার কৃষি বিভাগের দেয়া ব্রি ধান ৮৪ জাতের বীজ নিয়ে সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে রােপন করেন। একই অবস্থা সফিউদ্দিন ও আলিমসহ অনেক কষকের। ভুক্তভােগী কৃষক দীপক কুমার, সফিউদ্দিন ও আলিম লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজলার বাউরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। দীপক কুমার ও সফিউদ্দিনর বাড়ি ওই ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় আর আলিমের বাড়ি জমগ্রাম এলাকায়। এরা ৩ জনই ওই উপজেলার কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী ধান চাষের সুবিধাভাগী কৃষক। তবে কৃষিবিদরা বলছেন,  ব্রি-৮৪ জাতের ধান একবারে নতুন। নতুন জাতের ধান স্থানীয় মাটি কার্যকর কিনা তা পরীক্ষামূলক চাষ করে কৃষক পর্যায় রােপনের জন্য বিতরণ করা প্রয়ােজন ছিল। কিন্তু কৃৃষি বিভাগ তা না করে হয়তাে বা সরাসরি চাষি পর্যায়ে বিতরণ করেছেন। ৮৪ জাতের ধানটি এখানকার মাটি ও আবহাওয়া উপযােগী নাও হতে পারে। এছাড়া বালাই নাশক ঔষুধও ঠিক ভাবে প্রয়ােগ না করায় চাষিদের ধান চিটা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। জানা গেছে, ওই উপজেলার ২০১৯-২০ অর্থ বছরের রাজস্ব খাতের অর্থায়ন কৃষি অফিসের সহযােগিতায় ২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে কৃষক দীপক কুমার তাঁর বাড়ির পাশে সাড়ে চার বিঘা জমিতে  ব্রি ধান-৮৪ জাত লাগিয়ে ছিলেন। ধান কলা পাঁকা হয়ে আসলে কৃষক লক্ষ্য করেন ধানে পরিপক্ক দানা নেই, আছে শুধুই চিটা। একই অবস্থা অপর কৃষকদের ক্ষেতেরও। এরপর ৩ জনেই কৃষি অফিসের স্বরনাপণ্য হন। কৃষি অফিস দফায় দফায় ওই তিন কৃৃষককে বিভিন্ন ধরণের ওষুধ প্রয়ােগ করার পরামর্শ দেন। আশায় বুক বেঁধে দফায় দফায় বাজার থেকে ওষুধ কিনে চিটাধান প্রয়ােগ করতে থাকেন তারা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কােন ভাল ফল না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রান্তিক ঐ কৃষকদের কাছে এটা অনেকটা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতা হয়ে দাঁড়ায়। সর্বস্বান্ত কৃষক আশার সুফল ঘরে না তুলে ক্ষেতেই রেখে দেন। তাদের ভাষায় ‘ মড়া টেনে লাভ কী ?
কৃষক দীপক কুমার বলেন, আমি ও অপর দুই কৃষক পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসের সহযােগিতায় অফিসের সরবরাহকৃত বীজ ব্রি ধান-৮৪ জাতের প্রদর্শনী ক্ষেত করি। ধানে দুধচাপার আগ পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। ধানে পাঁক আসলে লক্ষ্য করি দানা পরিপক্ক হচ্ছে না, কিছুদিন অপেক্ষা করার পর বুঝত পারি ধানের দানা চিটায় পরিণত হতে চলেছে। এরপর কৃষি অফিসের স্ববরনপণ্য হই। কৃষি অফিস দফায় দফায় ওষুধ প্রয়ােগের পরামর্শ দেন। আশায় বুক বেঁধে টাকা খরচ করে ওষুধ ছিটাই। কিন্তু কােন লাভ হয়নি। এই ক্ষেত করতে গিয়ে আমার খরচ হয় ৪০ হাজার টাকা। সাথে একটি মৌসুমের আবাদ। তাতে আমার মােট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে লক্ষাধিক টাকা। আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিন জনকেই কৃষিতে প্রনােদনা দিতে কৃষি অফিসের কাছে জােড় আবেদনও করেছি ।
কৃষক সফিউদ্দিন বলন, আমি কৃষি অফিসের সহযােগিতায় দুই বিঘা ব্রি ধান-৮৪ জাত আবাদ করেছিলাম। আমার জমির সবটাই চিটা পড়েছে। এতে আমার মােট ক্ষতির পরিমাণ ৫০হাজার টাকা।কৃষক আলিম বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে কৃষি অফিসের দেওয়া বীজ ধান করেছিলাম। আমার ধান ক্ষেতের সবটাই চিটা হয়ে পড়েছে। এতে আমার মােট ক্ষতি ৪০ হাজার টাকা। আমি কৃষি অফিসের কাছে আবেদন করেছি আমার ক্ষতি পুষিয়ে দিতে। পাটগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল গাফফার বলেন,  ওই তিন কৃষক আমাদের অফিসের সহযােগিতায় ব্রি ধান-৮৪ জাত প্রদর্শনী করে ছিলেন। এ জাতের বীজটি ছিল নতুন। আমাদের কােন গাফিলতি ছিল না। বৈরি আবহাওয়া ও পরিচর্যায় ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণ ধানের চিটা হতে পারে। ওই কৃষকদের ক্ষতিপূরন পুসিয়ে দিতে প্রনােদনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।
(Visited 1 times, 1 visits today)

বার্তা সম্পাদক

আশিকুর রহমান শ্রাবণ

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: