তারিখ

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২০ ইং, রাত ১:৪১, ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী

বিশেষ প্রতিনিধি- ময়মনসিংহের ভালুকায় অবৈধ ভাবে চাল দেওয়ার সময় হাতে নাতে চার ট্রাক চাল আটক করলেও রহস্যজনক কারণে তিন ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেন ইউএনও । ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বিকেলে ভালুকা খাদ্য গুদামে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,মিল মালিক সমিতির সভাপতি ও গুদাম কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুদামে সরকারি ধান-চাল ক্রয় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার গোপন সংবাদের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালভর্তি ৪টি ট্রাক আটক করে ট্রাকের চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। চালকেরা জানায়,চাল ভর্তি ট্রাকগুলো তাঁরা রংপুরের একটি মিল থেকে নিয়ে এসেছেন। এর মালিক ভালুকার সিরাজ সাহেব। কিন্তু চালকেরা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি চেয়ারম্যানকে। পরে আবুল কালাম এই বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ ও ভালুকার ইউএনও কে অবগত করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রকৃত কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল ক্রয়ের যে উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে তা একটি চক্র খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাদের যোগসাজসে তারা ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । তিনি আরও বলেন, এই চক্রটি ভালুকার মানুষকে ধোকা দিয়ে আঙ্গুল ফোলে কলাগাছ হচ্ছে, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আমার দেখার ও জানার অধিকার রয়েছে যেহেতু এই ৬০টন চাউলের কোন বৈধ কাগজ পত্র নাই কাজেই সিন্ডিকেট অথবা চুরির মাল হিসেবে ধরে নিতে পারি ।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ইউএনও খাদ্য গুদামে উপস্থিত হয়ে ট্রাকের চালক ও সারম মিল মালিক মকবুল হোসেন কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।তাদের সঙ্গে সিরাজও উপস্থিত ছিলেন,সেখানেও চালকেরা স্বীকার করেন চাল তারা রংপুরের একটি মিল থেকে এনেছে । কিন্তু সিরাজ তাঁর চাল নয় বলে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে রহস্যজনক কারণে সন্ধ্যায় ৬০ টন চাল ভর্তি চারটি ট্রাক ছেড়ে দেন ইউএনও ও গুদাম কর্মকর্তা ।
উল্লেখ্য-গত ৮ জানুয়ারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এক কৃষকের নামের ধান আরেক কৃষক গুদামে বিক্রি করতে এসে ধরা খায়। এ ব্যাপারে গুদাম কর্মকর্তা নিজেকে বাচাতে পরের দিন দুই ছাত্রের নামে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন । অথচ গুদাম কর্মকর্তা আবুল বাসার নিজেই ওই ছাত্রের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য সরকারি বস্তা সরবরাহ করেছিলেন ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি মাসুদ কামাল জানান, রংপুর থেকে চাল নিয়ে এসে ভালুকা খাদ্য গুদামে বিক্রি করার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। এই কাজের সঙ্গে জরিত যারা রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভালুকার খাদ্য কর্মকর্তা হাসান আলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এই বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এসব বিষয়ে বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

বার্তা সম্পাদক

আশিকুর রহমান শ্রাবণ

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: