রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি–কুড়িগ্রামের রৌমারী সরকারী হাসপাতালে জরুরী বিভাগে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে রোগিদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বাবুর্চি। হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় জরুরী বিভাগে ওই বাবুর্চি জাহিদুল ইসলামকে।
দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই দেখা যায় জাহিদুল ইসলাম বাবুর্চি, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক ব্যক্তিকে বেডে উপরে বসানো অবস্থায় ওই বাবুর্চি (জাহিদুল) ওই ব্যক্তির ক্ষতস্থান চিকিৎসা দিচ্ছেন।
পাশাপাশি গুরুত্বর আহত ব্যক্তিদের কাটা ছেঁড়া ও সেলাই পর্যন্ত করেন ওই বাবুর্চি জাহিদুল। কিন্তু ওই বিভাগে নিয়মিত সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (স্যাকমো) নিয়োজিত থাকার কথা। কিন্তু মাঝে মধ্যে ওই স্থানে ভারাটে লোকজন দিয়ে স্যাকমোর কাজ করানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, হাসপাতালে নিয়োগকৃত মশালচি (বাবুর্চি) মিন্টু। কিন্তু রোগিদের খাবার সরবরাহ ও মাঝে মাঝে তাঁর (মিন্টু) স্থলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জাহিদুল রান্নাবান্নার কাজেও নিয়োজিত থাকেন। আবার হাসপাতালে আসা রোগিদের চিকিৎসাও করেন ওই বাবুর্চি।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টিএইচও ডা. মোমেনুল ইসলাম তিনি হাসপাতালের ১শ গজ দূরে রৌমারী ক্লিনিক নামে ব্যবসা কেন্দ্র খুলে বসেছেন। তিনি সরকারি কর্মস্থলের চাইতে নিজ প্রতিষ্ঠান রৌমারী ক্লিনিকে সময় বেশি দিয়ে থাকেন।
এদিকে রৌমারী ক্লিনিকের কর্মরত মোবারক নামের ব্যক্তি প্রতিদিন রৌমারী হাসপাতাল থেকে টিএইচও ডা. মোমেনুলের যোগসাজসে রোগিদের ক্লিনিকে নিয়ে আসে। রৌমারী ক্লিনিকে ইতিপূর্বে নামধারী ভুয়া ডাক্তার দিয়ে রোগিদের চিকিৎসা করানো সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। ওই ক্লিনিকে এক গর্ভবর্তী মাকে ভুল সিজারে তাঁর পেঁটে থাকা সন্তানের মৃত্যু ঘটে। পরে ঘটনাটি নানা ভাবে ধামাচাপা দেন।
ওই বাবুর্চি জাহিদুলকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন এখানে মাঝে মধ্যে ডিউটিরত কোন ডাক্তার না থাকায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি কাজ করি।
তবে ভুক্তভোগী রোগিরা বলেন, সরকারি হাসপাতালে বড় ডাক্তার থাকলেও হাসপাতালে এক বাবুর্চি দিয়ে রোগিদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে করে হাসপাতালে আসা রোগিরা সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত।
বাবুর্চি জাহিদুলের বিষয় জানতে চাইলে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) মো. নাজমুল ইসলাম জানান, ‘প্রয়োজনের তাগিতে কিছু লোক নেওয়া হয়। তিনি (নাজমুল) আরো বলেন, ওই লোকদের দিয়ে বিভিন্ন সময় কাজে লাগানো হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, মাঝে মাঝে রোগিদের সেবা করে থাকেন ওই ব্যক্তি (বাবুর্চি)।’
এই বিষয়ে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, ‘জাহিদুল নামের ব্যক্তিকে অতিরিক্ত মশালচি (বাবুর্চি) হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তবে রোগিদের কাটা, ছেঁড়া ও সেলাই করেন কিনা তা আমার জানানেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, রৌমারী ক্লিনিক আমার নামে নয় তবে স্ত্রী নামে।”
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এর মোঠ ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি নানাবিধ ব্যস্ততা দেখিয়ে বিষয়টি পাস কাটিয়ে যায়। অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানাতে বলেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: