ভালুকা সংবাদদাতা-ভালুকা রেজিস্ট্রি অফিসের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম, সিরাজুল ইসলাম সুজন, আবু রাসেল চৌধুরীসহ তিন ব্যক্তির নামে ৯ কোটি টাকা আত্নসাত করার অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তি ও বিদেশে অবস্থান করা ব্যক্তির নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া দলিলদাতা সাজিয়ে কমিশন গঠনের মাধ্যমে ২০১৭ সালে দুইটি ভূয়া দলিল রেজিস্ট্রি করেন। দুদকের এক কর্মকর্তা সাব-রেজিস্ট্রার,দলিল লেখক ও জমি গ্রহিতার নামে দুইটি মামলা দায়ের করেন। বুধবার(১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৯ কোটি টাকার আত্মসাতের প্রমাণ পেয়ে সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদুক)।দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সাধন সূত্রধর বাদী হয়ে ভালুকার সদ্য বিদায়ি সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম, অফিসের দলিল লেখক সিরাজুল ইসলাম সুজন ও আবু রাসেল চৌধুরী এই তিন ব্যক্তির নামে মামলাটি দায়ের করেছেন।
সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম এক মাস আগে ভালুকা থেকে যশোরের ঝিনাইদহ সাব-রেজিস্ট্রী অফিসে বদলি হয়েছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভালুকার সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম, অফিসের দলিল লেখক সিরাজুল ইসলাম সুজন এবং ঢাকা ব্যবসায়ী আবু রাসেল চৌধুরীর যোগসাজশে প্রতারণা করে নয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জালিয়াতির মাধ্যমে ভালুকা উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের এক মৃত ব্যক্তি ও বিদেশে অবস্থান করা ব্যক্তির নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া দলিল দাতা সাজিয়ে কমিশনের মাধ্যমে ২০১৭ সালে দুইটি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে সতের একর তিরানব্বই শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করেন। এতে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করে টাকা ভাগাভাগি করে নেন তারা। এ ঘটনা জানাজানি হলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জমি আত্মসাৎ ও দলিল জালিয়াতির সত্যতা পায় দুদক। ঘটনায় বুধবার বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে।আরও জানা যায়, ২০১৭ সালের (২৮সেপ্টেম্বর) ভালুকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগদান করেন জাহাঙ্গীর আলম। যোগদান করার পর তিনি সাব কবলা,হেবা,বন্ধকি,দানপত্রসহ সব ধরণের রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে জমির মূল্যের শতকরা ৫শতাংশ হারে ও উপর পি ফি নামে প্রতি লাখে ৫শত টাকা করে সেরেস্তা ফি ধার্য করে দেন। সেই টাকা অগ্রিম আদায়ের জন্য অফিসে দু’জন কর্মচারী অফিস সহকারী আবুল হাশেম ও মোহরার আন্বিয়া খাতুনকে নিযুক্ত করেন। কোনো দলিল লেখক ধার্যকৃত সেরেস্তা ফি কম দিতে চাইলে অফিস সহকারী প্রতিস্বাক্ষর না করে দলিল ফেরত পাঠিয়ে দিতো। এ নিয়ে ওই সময় দলিল লেখক ও জমি ক্রেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লাইসেন্স হারানোর ভয়ে কোন দলিল লেখক প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।এ ঘটনায় ২০১৭সালে (২৬সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম দলিল মূল্যের শতকরা ৫ শতাংশ হারে সেরেস্তা ফি নামে প্রকাশ্যে দলিল লেখকদের মাধ্যমে দলিল গ্রহীতার কাছ থেকে অবাধে ঘুষ গ্রহণ বন্ধের জন্য সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। তারপরও ওই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হয়নি।
চলতি বছরের ৫ মে সাবরেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের কাদিগড় মৌজার ১৭ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে নয় একর জমি আমমোক্তা দলিল করেন। অথচ ওই জমির দুই মালিক ১৪ বছর আগে সৌদি আরবে মারা যান। মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে মৃত ব্যক্তির নামের জমির ভূয়া দাতা সাজিয়ে ওই দলিল নিবন্ধন করেন সাব-রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। পরে অবশ্য বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসন ও স্থানীয় সাংবাদিকদের চাপে পড়ে ওই দলিল বাতিল করেন তিনি।
(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: