এম আর অভি, বরগুনা প্রতিনিধি : বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবারও চার্জশীট দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। নতুন করে আবার আগামী ৩ সেপ্টেম্বর চার্জশীট দাখিলের তৃতীয় দফায় তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশে কেস ডকেট নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুক্রবার (২৩-৮-১৯) ঢাকায় গিয়েছেন।বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে গ্রেফতারকৃত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ১৪ জন আসামীকে হাজির করা হয়। যশোরের শিশু-কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে থাকায় রাতুল সিকদারকে আদালতে হাজির করা হয়নি।রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হচ্ছে, ১। রিফাত ফরাজী, ২।রিশান ফরাজী, ৩।চন্দন সরকার, ৪।রাব্বি আকন, ৫।হাসান, ৬।অলি, ৭।টিকটক হৃদয়, ৮।সাগর, ৯।কামরুল ইসলাম সাইমুন, ১০।আরিয়ান শ্রাবন, ১১।রাফিউল ইসলাম রাব্বি, ১২।তানভীর, ১৩।নাজমুল হাসান, ১৪।রাতুল সিকদার ১৫।আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।
মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামী মুসা বন্ড, ৭ নম্বর আসামী মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৮ নম্বর আসামী রায়হান ও ১০ নম্বর আসামী রিফাত হাওলাদারকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রধান আসামী নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী আরিয়ান শ্রাবণ, কামরুল ইসলাম সাইমুন ও সাগরের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালতে কেস ডকেট না থাকায় জামিন শুনানী হয়নি। আসামী পক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের জানিয়েছেন, আগামী তারিখে তাদের জামিন শুনানী হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির জানান, চার্জশীট তৈরী করতে না পারায় বৃহস্পতিবারও তিনি আদালতে তা দাখিল করতে পারেননি। তবে পরবর্তী তারিখে দাখিল করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম জানান, গত ৩১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিলো। ওই তারিখে তিনি প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। পরে ১৪ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ থাকলে ওইদিনও প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তৃতীয় দফায় বৃহস্পতিবারও তিনি প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। আইনজীবী আসলাম আরো জানান, রিফাত হত্যার সাথে জড়িত থাকা আসামীদের নাম উল্লে¬খ করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করলে এবং বিচারক তা গ্রহণ করলে সেটিই চার্জশীট হিসেবে গণ্য হবে।
মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গত ১৬ জুলাই রাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পরেরদিন তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তার দুদিন পরে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। গত ৩১ জুলাই সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের জন্য মিন্নি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বরগুনার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে আবেদন করেছেন। বিচারক তার আবেদন গ্রহণ করে নথিভূক্ত করেছেন। মিন্নি গ্রেফতারের পরে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেছিলেন, রিফাত হত্যার পরিকল্পনার সাথে মিন্নি জড়িত। পরবর্তীতে বলেছেন, হত্যাকারী অনেকের সাথে মিন্নির আগে ও পরে কথা হয়েছে। হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে মিন্নির নাম চার্জশীটে যুক্ত হবে এটা অনেকটা নিশ্চিত বলে ধারণা অনেকের।
এদিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কেস ডকেট নিয়ে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে। তাছাড়া মিন্নির সংশ্লিষ্টতার বিষয় জানিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পুলিশ সুপারকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এ আদেশ দিয়েছেন। মিন্নিকে কখন গ্রেফতার করা হয়েছে, আদালতে নেওয়া হয়েছে ও কোথায় কখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং পুলিশ সুপার কবে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তা সু¯পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির শুক্রবার (২৩-৮-১৯) জানান, তিনি কেস ডকেট নিয়ে ঢাকা গিয়েছেন। আগামী ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে কেস ডকেট উপস্থাপন করবেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জন ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
##

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: