জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধিঃসিলেটের জৈন্তাপুরে জমে উঠছে কোরবানীর গরুর বাজার, বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড় ঈদুল আজহার বাকি আর ১ দিন। ঈদ সামনে রেখে ইতোমধ্যেই জমে উঠেছে জৈন্তাপুরের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট। শুক্রবার দরবস্ত বাজার হওয়ায় সকাল থেকেই পছন্দের পশু কিনতে দরবস্ত বাজারে ক্রেতা সমাগম ছিল উল্লেখযোগ্য। সকাল থেকেই বাজারে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে ক্রেতাদের পশু দেখা ও দামাদামি। অন্যদিকে জৈন্তাপুরের বাহিরে থেকে বিক্রেতারা জৈন্তাপুর, দরবস্ত, হরিপুর বাজারে ঢুকছে ট্রাক ভর্তি গরু নিয়ে। কেউ বা বাড়ী থেকে বিক্রি করার জন্যে গরু নিয়ে দাড়ঁনো হাটের খুঁটির পাশে। তবে নিজেদের দেওয়া দাম থেকে ক্রেতাদের তেমন ছাড় দিচ্ছেন না বিক্রেতারা। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে গতকাল দরবস্ত বাজারে কুরবানির পশু কিনতে আসা অনেক ক্রেতার।ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম থেকে কুরবানির পশু কিনতে দরবস্ত এসেছেন মোঃ আনা মিয়া। কুরবানির গরু পছন্দ করে কিনতে দাদার সাথে বাজারে এসেছে ১০ বছরের শাহরিয়ার আলম। মোঃ আনা মিয়া বলেন, ‘বিক্রেতারা দাম বেশি বলছে। সাধারণত যে দাম হওয়া উচিত তার চাইতেও অনেক বেশি। যে গরুর দাম গত বাজার ৭০হাজার আজ তা অনেক বেশি চাচ্ছে বিক্রেতারা। এখনো গরু আসছে। দেখতে আসছি। পুরোপুরি গরু না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। দরবস্ত গ্রাম থেকে আসা কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘দেশি গরুর পরিমাণ একটু কম মনে হচ্ছে। বাজারে ভারত থেকে আসা গরু বেশী দেখতে পাচ্ছি। দেশি যা দেখছি, পছন্দ হলেও দামে হচ্ছে না। দাম অনেক বেশি চাচ্ছে বিক্রেতারা।’
স্থানীয় ব্যাপারীদের কাছে দেখা গেছে অধিকাংশই ভারতীয় জাতের গরু। একজন ব্যতিক্রম জানিয়েছেন- অনেকে বছর খানেক আগে স্থানীয় বাজার থেকে গরু কিনে তা লালনপালন করে বাজারে এনেছেন এই বিক্রেতারা। মূলত প্রতি বছর কুরবানির ঈদের পর নতুন গরু কেনেন এসব পশু ব্যবসায়ীরা। এক বছর লালনপালন শেষে দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে আসেন বিক্রি করতে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৫/১০টি গরু নিয়ে এসেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। তাদের কাছে দেশি জাতের লালচে রং এর চাহিদা একটু বেশি। শুক্রবার পর্যন্ত দেখা গেছে দু একটি গরু বিক্রি হয়েছে। তাই বলে দাম কমাতেও রাজি নন এই বিক্রেতাগন। তারা বলেন, ‘লোকজন আসে, দেখে। দামে হয় না। তাই বেচি না। এক বছর পালছি, গরু খাবারের দাম বেশি। অনেক খরচ। কম দামে হয় না।’এদিকে বাজারে দেশি গরুর সংখ্যা কম দেখা গেছে। তবে পুরোপুরি জমে উঠেছে বাজারটি যেমনটা পুরো বাজার ঘুড়ে দেখলাম। বিকেল হতে না হতেই গরুর দাম একটু বেশি হতে লাগলো। সিলেট তামাবিল সড়কের পাশে দেশি গরুর দেখা মিলল। এমনটা জানালেন দরবস্ত বাজারের এক ব্যবসায়ী। দরবস্ত বাজারের এক ইজাদার জানান, ‘বাজারের পক্ষ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ক্রেতাদের চাহিদার মধ্যে খামারে বা বাড়িতে পোষা গরুই প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পশু আমদানির ওপর দাম নির্ভর করলেও এ বছর সব ধরনের পশুর দাম তুলনামূলক একটু বেশি হবে বলে মনে করছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: