নবীগঞ্জ প্রতিনিধি – হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের ৩৭ নং কামার গাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত চন্দ্র দাস এর রিুদ্ধে আযান নিয়ে কটুক্তি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগসহ ছাত্র-ছাত্রীদের নানাভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।এতে এলাকায় অভিভাবক সহ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুরে ম্যানেজিং কমিটিসহ অভিভাবকদের জরুরী সভা হয়েছে। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায়,ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকগন স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন ,ওই শিক্ষক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে প্রায়ই তিনি শ্রেণী কক্ষে অবস্থানকালীন সময়ে কোমলমতি মুসলিম ছাত্রীরা যখন পবিত্র আযান শোনে মাথায় পর্দা করে নিরবতা পালণ করলে তখন শিক্ষক ক্ষেপে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর চরমভাবে ক্ষেপে গিয়ে তাদের সাথে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। এমনকি আযান নিয়ে তিনি তীব্র কঠুক্তি করে ছাত্রীদের বলেন-কিসের আযান ও কিসের পর্দা এগুলো আমার ক্লাসে চলবেনা। এই ঘটনাটি ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের অভিভাবক সহ তাদের মক্তবের হুজুরদের নিকট জানালে এলাকায় মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠে।এছাড়া ও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে রয়েছে আরো অহরহ অভিযোগ। ছাত্র-ছাত্রীদের সরকার কর্তৃক মিড-ডে মিল- (টিফিন বক্স) সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়। এই মিড-ডে মিল ও তার স্কুলে চলবেনা বলেও তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কঠোর হুশিয়ারী দেন,এবং বলেন মিড-ডে গাছতলায় এখানে নয় । মিড-ডে মিল (টিফিন টাইমে) স্কুলের ভেতর খাবার দায়ে ৫ম শ্রেণীর কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীদের তিনি প্রহার করেন। প্রধান শিক্ষক কর্তৃক নির্যাতনের শিকার ৫ম শ্রেণীর ছাত্র মাহদী চৌধুরীকে স্কুলের ভেতরে মিড-ডে টিফিন খাবারের দায়ে গত সোমবার দুপুরে তাকে বেত্রাঘাত করে আহত করেন তার কানে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শিক্ষক সুজিত চন্দ্র দাস । এব্যাপারে নির্যাতনের শিকার ছাত্র মাহদীর বাবা হাসান চৌধুরী ও মাতা সেলিনা চৌধুরীর সাথে প্রতিনিধির মোবাইল ফোনে আলাপকালে তারা বলেন, তাদের নিরপরাধ শিশু সন্তানকে মাস্টার সাহেব যেভাবে মিড-ডে (টিফিন) খাবার দায়ে নির্যাতন করেছেন এবং অশালীন ভাষায় যে গালিগালাজ করেছেন তারা এবিষয়ে হতবাক ও মর্মাহত হয়েছেন। এখন ওই শিক্ষকের ভয়ে তাদেরর সন্তান স্কুলেই যেতে চায়না। অপরদিকে আযান নিয়ে ব্যঙ্গ ও কটুক্তি করার বিষয়ে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী সামছিয়া আক্তারের পিতা কামারগাওঁ গ্রমের মোঃ জসিম উদ্দীন বলেন-তার মেয়ে বাড়িতে এসে অভিযোগ করে বলে তাদের প্রধান শিক্ষক প্রায়দিনই আযানের সময় ব্যঙ্গ ও কঠুক্তি করে তাদের মাথায় পর্দা করতে বাঁধা দেন, এছাড়াও আযান ও মোয়াজ্জিন নিয়ে তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং গত এক সপ্তাহ ধরে ৫ম শ্রেণীতে কোন ক্লাস নেয়া হচ্ছেনা বলেও তিনি জানান। এছাড়াও ওই স্কুলের ১ম শ্রেণীর ছাত্র রোহান নামের শিশুর অভিভাবকের কাছে উপবৃত্তি দেওয়ার নামধরে ১৫০ টাকা দাবী করেছেন প্রধান শিক্ষক। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক সুজিত চন্দ্র দাসের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই সমস্ত ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেননা বলে অভিযোগগুলো উড়িযে দেবার চেষ্টা করেন।এব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আমিনূল ইসলাম চৌধুরী শামীমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ পেয়েছেন এবং সত্যতা স্বীকার করে বলেন- এবিষয় নিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বৈঠক করে শিক্ষককে হুশিয়ারি করে দেয়া হয়েছে। একজন সিনিয়র শিক্ষকের কাছ থেকে ধরনের আচরণ কখনোই তারা আশা করেননি। প্রধান শিক্ষকের এমন ঘটনায় স্কুলের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক সহ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এলাকার সচেতন মহল জোরদাবী জানিয়েছেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: