ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা – ময়মনসিংহের ভালুকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই নারী সহ ৩জনকে কোপিয়ে গুরুতর আহত করার পর বাড়ি ঘরে হামলা লুট পাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়েরের ১২দিন পার হলেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ আসামী গ্রেফতার করছেনা। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯জলাই সকালে উপজেলার বরাইদ গ্রামে । বর্তমানে আহত এক নারী ঢাকার উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।মামলা ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানাযায়, উপজেলার বরাইদ গ্রামের আলী আকবরের ছেলে ওমর ফারুকের সাথে স্থানীয় আসাদুজ্জমান গংদের বড় লৌহাবৈ মৌজার ২৮শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ওমর ফারুক ২নং মেদুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার দিন (১৯জুলাই) স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে শালিস বসান। ওই শালিসে ওমর ফারুকের জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম একজন জমি মাপাার আমীন দিয়ে পরিমাপ করে গণ্যমান্যদের সামনে ওমর ফারুকের ২৮শতাংশ জমির সীমানা চিহ্নিত করে দেন।
শালিস শেষে ওমর ফারুক চিহ্নিত সীমানায় খাঁটি পূঁতার সময় প্রতিপক্ষ আসাদুজ্জামান ওরফে জামান,জিহাদ, আবু রাশেদ, রাশিদা খাতুন, জেসমিন আক্তার অতর্কিত ভাবে দা, লাঠি, কোদাল, রড, শাবল, বল্লম, সহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ওমর ফারুক,তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার, ছোট বোন সুফলা আক্তারের উপর হামলা করে। প্রতিপক্ষরা কোদাল,দা দিয়ে মাথায় কোপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ সময় ঘটনাস্থল আহতদের রক্তে ভেসে যায়। স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কামপ্লেক্স পরে আশঙ্কা জনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতদের অবস্থার অবনতি হলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে আহতদের অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিক ভাবে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে আয়েশা আক্তার ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পর প্রতিপক্ষরা ওমর ফারুকের বসত ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে বাড়িতে লুটপাট ও ভাংচুর করে। এ সময় বাড়ি থেকে একলাখ ২৭হাজার নগদ টাকা, ৫ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং ফারুকের বিদেশ যাওয়ার বিমানের টিকেট লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনা ঘটনার সাথে সাথে মোবাইল ফোনে বিষয়টি ভালুকা থানা পুলিশকে জানানোর পর ৪ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু এর আগেই আসাদুজ্জামান তার লোকজন নিয়ে ফারুকের বাড়িতে লুটপাট ও ভাংচুর করে। এ ঘটনায় ফারুকের পিতা আলী আকবর বাদী হয়ে ৫জনকে আসামী করে ভালুকা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন(যার নং ৩৪ তারিখ ১৯.০৮.২৩০১৯ইং)। হামলা ও মামলার পর ১২দিন অতিবাহিত হলেও রহস্য জনক কারণে একজন আসামীকেও পুলিশ গ্রেফতার করেনি।বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, আসাদুজ্জামানের শুধু থাকার ঘরের জমি টুকু আছে। সে এলাকায় হেরোইন,মাদক ব্যবসায় করে। এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। আসাদুজ্জামান তার নিজের ছেলে জিহাদকে নিজে লুকিয়ে রেখে প্রতিবেশি বরাইদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতাহার মৌলভী ও তার ছেলে আশরাফ আলীকে অপহরণের মিথ্যা মামলা দিয়ে পিতা পূত্রকে তিন মাসের হাজত খাটান। আদালত থেকে জামিনে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আসাদুজ্জামানকে চাপ দিলে সে তার ছেলেকে হাজির করেন।
একই গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ১৪শতাংশ জমির বোরো ধান জোরপূর্বক কেটে নিয়ে আসার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে গ্রামের নিরীহ লোকজনকে মামলা সহ বিভিন্ন ভাবে হয়রানী ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
ওমর ফারুক জানান, ২৮শতাংশ জমি আমি ক্রয় করেছি। এটা আমার পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। তারপরও আসাদুজ্জামান আমার জমি জোরপূর্বক দখল করতে চায়। আসাদুজ্জামান শালিসে এসে গণ্যমান্যদের সবার সামনে বলে জমির মালিক ওমর ফারুক কিন্তু আমার শরীরে একবিন্দু পরিমাণ রক্ত থাকতে আমি ওই জমিতে ফারুককে যেতে দেবো না। মামলা করার পর আজকে পর্যন্ত কোনো আসামী পুলিশ গ্রেফতার করেনি। আসামীর সন্ধান জেনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস,আই মোজাম্মেল হককে ফোনে জানালে তিনি ৪ থেকে ৫ঘন্টা পর এসে আমার সাথে দেখা করেন। এর মাঝে আসামীরা স্থান পরিবর্তন করে ফেলে।
শিক্ষক আতাহার মৌলভী জানান, নিজের ছেলেকে আসাদুজ্জামান নিজেই লুকিয়ে রেখে আমার ও আমার ছেলের নামে অপহরণের মিথ্যাা মামলা দিয়ে ৩মাস জেল খাটিয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
এ সব ঘটনার ব্যাপারে জানতে বৃহস্পতিাবার আসাদুজ্জামানের বাড়িতে গেলে তাদের কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম জানান,আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে শালিস করে জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ওমর ফারুককে জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্ত আসাদুজ্জামান স্থানীয় শালিস না মেনে ফারুক,তার স্ত্রী ও বোনের উপর বর্বোরোচিত হামলা করে এবং গুরুতর আহত  করে। হাসপাতালে নেয়ার পর আমাদের কাছে খবর আসে আয়েশা মারা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস,আই মোজাম্মেল হক জানান, মামলা হওয়ার পর আসামী ধরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। কিন্ত আমাদের আসার খবর পেয়ে আসামীরা আগেই সটকে পড়ে। আসামী ধরার চেষ্টা চলছে। আসামীরা সবাই বাড়ি থেকে পালিয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, মামলা হওয়ার পূর্বেই আমি আসামী ধরার জন্য পুলিশ পাঠিয়েছি। আসামী ধরার জন্য গফরগাঁও সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছি। আসামী ধরার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো রকমের গাফিলতি নেই। আসামী ধরার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: