মো. আফজাল হোসেন দিনাজপুর প্রতিনিধি -আন্তজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন কৃষি প্রকৌশলী ড. মোঃ এছরাইল হোসেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের আলোকে গত ২৭ জুন “বাংলাদেশ গম ও ভূট্রা গবেষনা ইনস্টিটিউট, নশিপুর,দিনাজপুরের (ভারপ্রাপ্ত) মহাপরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন। ড. এছরাইল হোসেন ব্যক্তিগত ও চাকুরী জীবনে তিনি ছিলেন মিষ্টিভাষী, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, কৃষক-কৃষাণী ও গণমাধ্যম বান্ধব একজন কৃষি বিজ্ঞানী। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কৃষক সম্প্রদায়ের জন্য যুগোপযোগী কৃষি বিষয়ক যন্ত্রপাতি উদ্ভাবনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে সিডার মেশিন (বীজ বপন যন্ত্র), ভূট্রা মাড়াই যন্ত্র সহ বিভিন্ন মেশিনারীজ উদ্ভাবন করে কৃষকদের চাষাবাদে অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিয়েছেন। ফলে কৃষকদের মাঝে শ্রমিক সংকটের মাথাব্যাথা অনেকাংশে কমে গেছে। বাংলাদেশের মাটিতে লাগসই কৃষি প্রযুক্তি,দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগে উপরোক্ত কৃষি যন্ত্রপাতি অনন্য অবদান রেখেছে। বছরব্যাপী দানাদার শস্য ও ফসল উৎপাদনে কৃষককূল বাম্পার ফসল ফলাতে সক্ষম হয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) হতে ড. এছরাইল হোসেন বিএসসি (কৃষি প্রকৌশল) এম.এস.সি ডিগ্রী, ২০০৭ ইং সনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ময়মনসিংহ) হতে “কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ থেকে” ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেছেন। ১৯৮৯ সনে ড. এছরাইল হোসেন কৃষি প্রকৌশলী বিজ্ঞানী হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর হতে অদ্যাবধি দেশীয় ও আন্তজার্তিক জার্নালে তার ৯০টি কৃষি গবেষণা ও যন্ত্রপাতির উপর জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে, যা দেশে ও বিদেশে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে। এই প্রখ্যাত কৃষিবিদ চাকুরী সূত্রে জাপান, মেক্সিকো, চীন, অষ্ট্রেলিয়া, নেপাল, ইন্ডিয়া (ভারত), সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও শিক্ষা সফর এর মাঝে গবেষণামূলক পেপার উপস্থাপন করেছেন। তিনি দিনাজপুর গম গবেষণা কেন্দ্র, রাজশাহী আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর কেন্দ্রে সুনামের সঙ্গে চাকুরী করে অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করেছেন। আমাদের প্রতিনিধিকে এক সাক্ষাতকারে (ভারপ্রাপ্ত) মহাপরিচালক ড. এছরাইল হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার অগ্রধিকার মূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সাথে সাথেই সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতু উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে কৃষি পণ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী পরিবহনে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অনেক গতি এনেছে। কৃষি বিজ্ঞানী হিসেবে আমার মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ নিকটতম সময়ের মধ্যেই এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় হংকংয়ে পরিণত হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপ্রচলিত এলাকায় গম ও ভূট্রা চাষ সম্প্রসারণে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল, সিলেট, রাজশাহী বরেন্দ্র এলাকা ও অন্যান্য চরাঞ্চলে ইতিমধ্যে গম ও ভূট্রা চাষ সম্প্রসারণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে আগামীতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। উৎপাদন খরচ ও সময় সাশ্রয়ের জন্য কৃষি যন্ত্রপাতি দ্বারা গম-ভূট্রা উৎপাদনে আমরা বিশেষ কর্মসূচি গ্রহন করেছি এবং সামনের দিনে আরো বাস্তববমূখী ও যুগোপযোগী কর্মসূচী নেওয়া হবে। গম ও ভূট্রা চাষে সিডার মেশিন, মাড়াই যন্ত্র কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলতে কর্মসূচী চলমান রয়েছে। ভূট্রার বহুমূখী শিল্প ভিত্তিক (ইন্ডাষ্ট্রিয়াল) ব্যবহার বিশেষ করে কর্ণফ্লেক্স, কর্ণওয়েল (তৈল) উৎপাদনে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জমি খুবই উর্বর। এ মাটিতে গম, ভূট্রা, খইভূট্রা, ধান, আলু, পাট, মশলা সহ বিভিন্ন রবি শস্যের আশাতীত ফলন হয়ে থাকে। যা বিদেশের মাটিতে মোটেই উৎপাদন সম্ভব নয়। আমাদের দেশে যে সম্পদ রয়েছে তা দিয়ে আমরা যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবো। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ কৃষি বিজ্ঞানীর স্বপ্ন গ্রামীণ কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষকের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন করা। উল্লেখ্য যে, ড. এছরাইল হোসেন সাবেক মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্ম্মনের পদে স্থলাভিষিক্ত হলেন। গত ১৮ জুলাই গম ও ভূট্রা গবেষনা ইনস্টিটিউট এর সকল কৃষি বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা-কর্মচারীগন মহাপরি
চালক ড. এছরাইল হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি গম ও ভূট্রা উৎপাদনে স্থানীয় নাগরিকদের ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং কৃষক-কৃষানীর সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেছেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: