শাহ সুলতান আহমেদ নবীগঞ্জ থেকে – মোঃ আব্দুল মালিক ওরফে মালিক মিয়া হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার পার্শ্ববর্তী বানিয়াচঙ্গ উপজেলার কাগাপাশা ইউনিয়নের মকা গ্রামের এক জন নিরীহ সাধারণ গরীব ও অসহায় কৃষক। তার একটি ডেকা (ষাঁড়) গরু ছিল। যেটিকে তিনি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে যতœ করে লালন পালন করে আসছিলেন। তার স্বপ্ন ছিলো গরুটিকে মোটা তাজা করে এবারের কোরবাণীর ঈদে বিক্রি করে তার বেশ কিছু ঋণ ছিলো তা পরিশোধ করবেন। কিন্তু তার সে স্বপ্নে বাঁধ সাধে গরু চোর চক্র। গত ১লা রমজান তার গরুটি চুরি হয়ে যায়। ওই দিন সকালে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠে গোয়াল ঘরে গিয়ে দেখেন গরুটি সেখানে নেই। গ্রামের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে কোথাও না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। বিফল মনে বাড়ি ফেরার পর শেরপুর গ্রামের বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে খবর পান নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও ইউপির শেরপুর গ্রামের জনৈক সেলিম ড্রাইভার তার ভাড়াটিয়া গাড়ি দিয়ে তাদের গ্রামের জুয়েল মিয়ার পুত্র নায়েদ মিয়া ও নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গন্ধ্যা গ্রামের মৃত তমিজ উল্লা ওরফে তরমুজ মিয়ার পুত্র লেবু মিয়া তার গরুটি চুরি করে নিয়ে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গন্ধ্যা গ্রামে গেছে। সাথে-সাথে তিনি ৩টি মোটর সাইকেলযোগে নয়জন মানুষসহ নবীগঞ্জ এর গন্ধ্যা পয়েন্টে আসেন। সেখানে গিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর জাকীর হোসেনকে পেয়ে তার কাছে বিচার প্রার্থী হন। কাউন্সিলর জাকীর হোসেন তাদেরকে গন্ধ্যা পয়েন্টে একটি চায়ের দোকানে বসিয়ে রেখে লেবু মিয়ার বাড়িতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে তাদেরকে তিনি জানান যে, গরুটি কেটে বিক্রি করে ফেলেছে লেবু মিয়া। তখন কাউন্সিলর জাকীর হোসেন মোঃ আব্দুল মালিকের প্রায় ১ লক্ষ টাকা দামের গরুটি যেহেতু কেটে বিক্রি করে ফেলেছে তাই তিনি লেবু মিয়ার ওপর ৪০ হাজার এবং নায়েদ এর উপর ২৫ হাজার মোট ৬৫ হাজার টাকা দেয়ার রায় দেন এবং ৫ দিন পর অর্থাৎ পরের রবিবার মোঃ আব্দুল মালিকে তার কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা বলে তাকে বিদায় করে দেন। কাউন্সিলর জাকীর হোসেনের কথামত রবিবার তার সাথে নবীগঞ্জ এসে দেখা করেন মোঃ আব্দুল মালিক। তখন ওই কাউন্সিলর তাকে প্রথমে ১ সপ্তাহ পরে ৪ দিন, ৫ দিন এভাবে আরো সময় কর্তন করতে থাকেন। দীর্ঘদিন হাটাহাটি করে মোঃ আব্দুল মালিক অবশেষে বাধ্য হয়ে তার চাচা জালাল আহমেদের কাছে বিচার প্রার্থী হন। কিন্তু জালাল আহমেদ তাকে বিচারের কোন সুযোগ করে না দেয়ায় মোঃ আব্দুল মালিক নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহজ্ব ছাবির আহমেদ চৌধুরীর কাছে মৌখিকভাবে বিচার প্রার্থী হলে মেয়র কাউন্সিলর জাকীর হোসেনকে তার অফিসে ডেকে এনে মোঃ আব্দুল মালিকের সামনে বিষয়টির ব্যপারে জানতে চাইলে কাগাপাশা ইউনিয়নের হৈধরপুর গ্রামের শফিক মিয়ার পুত্র সুয়েল মিয়াকে নিয়ে বিষয়টি শেষ করবে বলে মেয়রকে জানান কাউন্সিলর জাকীর হোসেন। কিন্তু অদ্যাবদি কাউন্সিলর জাকীর হোসেন মোঃ আব্দুল মালিকের ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে ১ টি টাকাও তাকে দেননি। উল্লেখ্য, মোঃ আব্দুল মালিক খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন লেবু মিয়া ও নায়েদ মিয়ার কাছ থেকে কাউন্সিলর জাকীর হোসেন ইতিমধ্যে সমুদয় টাকা গ্রহন করে নিজেই আত্মসাৎ করে ফেলেছেন। ফলে মোঃ আব্দুল মালিক বাধ্য হয়ে গত মঙ্গঁলবার নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মোঃ আব্দুল মালিক একজন অসহায় গরীব কৃষক। তার একটি মাত্রই ডেকা (ষাড়) গরু ছিল। আগামী কোরবানীর ঈদে ডেকাটি বিক্রি করে তার বেশ কিছু ঋণ ছিল সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গরু চোর ও কাউন্সিলর জাকীর হোসেনের কারণে ওই কৃষকের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: