মেহেরপুর প্রতিনিধি-বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে ৭১-এ মুজিবনগরে শপথ নেয়া বাংলাদেশের প্রথম সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনৈতিক ভিত্তি এখন মারাত্মকভাবে মজবুত হয়েছে। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, শিশুভাতা, প্রতিবন্ধিভাতা, মাত্রত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন ধরণের ভাতা চালুর কারণে। জমি আছে ঘর নাই এমন পরিবারকে ঘর দেয়া হচ্ছে। ভিক্ষুকদেরও পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এসব কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন। আজ ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগরে ‘মুজিবনগর দিবস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগেরভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম বলেন- ১৯৪৭ সালের পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। আমাদের সুর্যসন্তানেরা ৯ মাসের যুদ্ধে দেশ স্বাধীন করে। খালেদা জিয়া এই স্বাধীন দেশে অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা করেস্বাধীনতা বিরোধীকে মন্ত্রী করে গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কলংকিত করেছে। পাকিস্তানীরা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে সেই হত্যার স্বীকৃতি চাই। তিনি আরও বলেছেন- খালেদা জিয়া ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন। তিনি যতই চেষ্টা করুন না কেনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে না।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটি- ২০১৯-এর আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোসারফ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি আমির হোসেন আমু আরও বলেন- স্বাধীনতা বিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি। জাতীয় চার নেতাকেও নির্মমভাবে হত্যা করে। মাননীয় শেখ হাসিনাকেও বার বার হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন- জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশ করেছিল। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মরনোত্তর বিচার করা হবে জিয়াউর রহমানের।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এমপি, মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এসএম কামাল, খুলনা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহীদুজ্জামান খোকন, সাইফুজ্জামান শিখর এমপি, আব্দুর রহমান এমপি প্রমুখ।
সমাবেশের আগে আমির হোসেন আমু সহ কেন্দ্রয়ি নেতৃবৃন্দ মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে পুলিশ, আনসার ভিডিপি, বিএনসিসি, গালর্স গাইড সদস্যরা কেন্দ্রীয় অতিথিদের গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এরপরেই গীতিনাট্য ‘বদলে যাও, বদলে দাও’ পরিবেশন করা হয়।
সূর্যদ্বয়ের সাথে সাথে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আজ ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মো.আতাউল গনি। উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইবাদত হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তৌফিকুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা আক্তারসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: