অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :-বরিশালের আগৈলঝাড়ার ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে বন্ধ হবার এক সপ্তাহ পর অপচিকিৎসালয় হিসেবে পরিচিত দু:স্থ মানবতার হাসপাতাল খোলার অনুমতি প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে তদন্ত রিপোর্ট আটকে আছে লাল ফিতার ফাইলের ভিতরে।
জানা গেছে, দু:স্থ মানবতা হাসপাতালে হাসপাতালে রোগীদের আনাড়ি চিকিৎসক ও আয়া-বুয়ার অপচিকিৎসা, ভুয়া ডায়গনস্টিক রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে গত ৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে এটি বন্ধ করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস। ওই অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম মনিরুল ইসলাম, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুকলাল সিকদারসহ সরকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে আদালতের হাকিম বিপুল চন্দ্র দাস হাসপাতাল পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট কোন বৈধ কাগজপত্র দেখতে না পাওয়ায় প্রকাশ্যে হাসপাতাল সীলগালা করার ঘোষণা দিয়ে এক কর্মকর্তাকে দিয়ে তালা কিনে আনান তিনি। তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত হয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হিরন্ময় হালদার সময় প্রার্থণা করলে আদালত কাগজপত্র প্রদর্শনের জন্য ওইদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করে ভর্তিকৃত রোগীদের উপজেলা সরকারী হাসপাতালের পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপরই শুরু হয় নানান নাটকীয়তা। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বন্ধ হাসপাতালে ওই রাতেই তিনটা সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা জানতে পেরে ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম মনিরুল ইসলাম দু:স্থ মানবতার হাসপাতাল বন্ধের জন্য নোটিশ প্রদান করেন। ওই নোটিশ গ্রহণ করেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. হিরন্ময় হালদার। বহু নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে বন্ধ হাসপাতালের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. একেএম মনিরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন। তবে ওই তদন্ত কমিটি কি রিপোর্ট প্রদান করেছে তা জানা যায়নি। লালফিতার ফাইলে আটকা পরেছে তদন্ত রিপোর্ট। বেসরকারী হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ডাক্তার, নার্স ও জনবল কাঠামো না থাকলেও বহু নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়ে অবশেষে বন্ধের এক সপ্তাহ পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বন্ধ হাসপাতাল খুলতে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যহতি প্রদান, রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ প্রদান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহের যথাযথ কাগজপত্র সংগ্রহ ও প্রশাসনের বিভিন্ন সুপারিশমালা ৯০ দিনের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করার শর্তে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯০ দিনের জন্য হাসপাতাল খোলার অনুমতি প্রদান করেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: