পাঁচ বছরের এক শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগকে ঘিরে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী গার্লস হাইস্কুল চত্বর। এ দিন সকাল সাড়ে ন’টা থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান উত্তেজিত অভিভাবকেরা। স্কুলে ভাঙচুর হয়। মার খান শিক্ষিকারা। এমনকি ঢাকুরিয়া স্টেশনেও তাঁদের উপরে চড়াও হয় এক দল বিক্ষোভকারী। আক্রান্ত হয় পুলিশও। তাদের লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। আহত হন ৮ পুলিশকর্মী। পুলিশের পাল্টা লাঠির আঘাতে মাথা ফাটে এক অভিভাবকের। পরে চার অভিভাবককে গ্রেফতার করা হয়।

যে ঘটনা ঘিরে এত কিছু, সেটি ২৬ সেপ্টেম্বরের। ওই স্কুলের প্রাক্‌ প্রাথমিকের শিশু শ্রেণির এক ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, সে দিন স্কুলের মধ্যেই তাকে যৌন নির্যাতন করেন দীপক কর্মকার নামে এক শিক্ষক। এ দিন সকালে স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে ওই ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, ‘‘ওই দিন বিজেপির ডাকা বন্‌ধ থাকলেও স্কুল খোলা ছিল। স্কুল থেকে ফেরার পর মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। জানায় তার গোপনাঙ্গে ব্যথা হচ্ছে।” ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘‘মেয়েকে দেখে মনে হচ্ছিল ও খুব ভয় পেয়েছে। আমরা ওকে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসককে সে জানায়, স্কুলের মধ্যে ১০ নম্বর ঘরে দীপক স্যর তার সঙ্গে অসভ্যতা করেছে।’’

ছাত্রীটির বাবা-মায়ের দাবি, তাঁদের পরিবারে এক জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় এত দিন তাঁরা এ নিয়ে কিছু করতে পারেননি। এ দিন সকালে তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও গুরুত্ব দেননি। এর পরে তাঁরা লেক থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে পকসো আইনে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আহত অভিভাবক।

কিন্তু অন্য অভিভাবকেরা ঘটনাটি জানলেন কখন? স্কুলে হামলাই বা হল কেন? ছাত্রীটির বাবা-মায়ের বক্তব্য, তাঁরা থানা থেকে ফিরে দেখেন, স্কুলের সামনে উত্তেজিত জনতার ভিড়। যদিও বিক্ষোভকারীদের একাংশ বলেন, সোমবারই বিষয়টি তাঁদের জানিয়েছিল ছাত্রীটির পরিবার।

এ দিনের গোলমালের পিছনে শুধু উত্তেজিত অভিভাবকরা নন, বহিরাগতেরাও আছে বলে প্রশাসনের দাবি। পুলিশের মতে, অভিভাবকদের সঙ্গে পঞ্চাননতলা ও বাবুবাগান বস্তির বাসিন্দারা মিলে হামলা চালান। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দেখে মনে হচ্ছে সংগঠিত আক্রমণ।

 

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: