উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি■: বুধবার (১০,অক্টোবর): কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দ‚র্গাপ‚জা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নারী-পুরুষ সকলে মিলে তৈরী করছেন প্রতিমা। এদিকে প‚জাকে সামনে রেখে নড়াইলসহ জেলার মৃৎ শিল্পীদের কর্মব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল জানান, বিশেষ করে দ‚র্গাপ‚জা এলেই বেড়ে যায় এই শিল্পের সাথে জড়িতদের ব্যস্ততা। প‚জার কয়েকদিন ধরে মাদুরের ওপর মাটির তৈরী রকমারি পণ্যের পসরা নিয়ে সকল বয়সীদের জন্য চলে মেলা। সেই মেলায় বিক্রির জন্য বাড়িতে মহিলারা তৈরি করছেন- মাটির তৈরি হাড়ি, পাতিল, কড়াই, তৈজসপত্র, পুতুল, তরমুজ, আম, জাম, কাঠাল, টিয়া, হাঁস, মোরগ, হাতি, বাঘ, হরিণ, মাছ, গরু, বিড়াল, খেলনা সামগ্রীসহ হরেক রকম রঙে রঞ্জিত জিনিষপত্র। উপলক্ষ্য একটাই, তাহলো শারদীয়া দ‚র্গাপ‚জা উপলক্ষ্যে বিভিন্নস্থানে অনুষ্ঠিত মেলায় এসব তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করা। ক্রেতাদের পছন্দকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবের সঙ্গে অনেকটা মিল রেখে নানা রংয়ের মিশ্রণ ঘটিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় এসব পণ্য। মৃৎশিল্পী অন্ন পাল বলেন, সারা বছর হাড়ি, পাতিল, সরা, কলস, খোড়া, দোনাসহ বিভিন্ন ধরণের মাটির সামগ্রী তৈরি করে বাজারের বিক্রি করি। বাজারে মাটির তৈরি জিনিস পত্রের দাম ভাল না পাওয়ায় আমাদের সংসার চালাতে বেশ কষ্ট হয়। তাই আমরা প্রতিটি বছর এ সময়টার জন্য অপেক্ষায় থাকি। নড়াইলের মৃৎশিল্পী বিশাখা পাল জানান, মাটির জিনিষ তৈরী করে আমরা মেলায় বিক্রি করি। শিশু, কিশোর-কিশোরী মাটির তৈরি পণ্য বেশি পছন্দ করে। শিশুদের বায়নার রকমারি খেলনার মধ্যে প্রাধান্য পায় টিয়া পাখি। মাটির তৈরি ব্যাংকগুলো নারী ক্রেতারাই বেশি কেনেন। বিশেষ করে প‚জার সময় আমাদের দম ফেলবার সময় পর্যন্ত থাকে না। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত যে পরিমাণ পরিশ্রম করা হয়, তাতে মনে হয় সে অনুযায়ী আমাদের লাভ থাকে না। মৃৎশিল্পী খগেন্দ্র নাথ পাল জানান, আমাদের এই ব্যবসা এখন আর খুব একটা বেশী চলে না। প‚জা আসলে আমরা যে সকল খেলনা তৈরি করি ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের খুশির জন্য, তাও বাজারে প্লাষ্টিকের আধিক্যে হারিয়ে যাচ্ছে এসব মাটির তৈরী হাড়ি পাতিল। আমাদের এই ব্যবসাটা বাপ-দাদারা করেছে বলে, সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য এখনও ছাড়তে পারছি না। সরকার আমাদের দিকে একটু সুদৃষ্টি দিলে আমরা আমাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারব। মৃৎশিল্পী গীতা রাণী পাল, আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, আমাদের এই মাটির কাজে বেশি অর্থ জোগায় না। অন্য জায়গায় কাজ না করে বাড়ি বসে বসে আমরা এই সব কাজ করি। নড়াইলের জেলা প‚জা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, আমাদের নড়াইল প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে বলেন, নড়াইলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক পাল স¤প্রদায়ের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। প্লাষ্টিকের তৈরী জিনিসপত্রের জন্য মাটির তৈরী জিনিসপত্র এখন বাজারে খুব কম চলে। তারা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখনও এই মাটির কাজ করে যাচ্ছেন।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: