আব্দুর রহিম-শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ  শ্রীপুর থানায় ‘জমি কারবারি’ হিসেবে পরিচিত এসআই মো.নাজমুল হক। তাঁর দাপটে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রীপুর থানায় যোগ দেয়ার কিছু দিন পর থেকে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পরে এসআই নাজমুল হক। তিনি করছেন জমি কেনাবেচা ও বিরোধ নিষ্পত্তির ‘জমজমাট বাণিজ্য’। থানার ভেতরে গোল ঘরে চেয়ার পেতে প্রায় প্রতি সকাল সন্ধ্যায় তার নেতৃত্বে সালিশ বৈঠকের নামে এ আসর বসছে।

এ আসরে স্থানীয় জমির দালাল ও জমিসংক্রান্ত মামলায় পারদর্শীরা যোগ দেয়। মূলত তিনি এ চক্রটিকে ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে কোনো রাখঢাক না করেই এ ‘বাণিজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে তাঁর সখ্যতা রয়েছে।

বেতনের তিন গুণ বেশি প্রায় লাখ টাকা খরচ করে প্রাইভেটকার (গাজীপুর মেট্রো-গ ১১-০০৪৯) নিয়ে তিনি চষে বেড়ান শ্রীপুর। বিলাসী এ কর্মে প্রশ্ন উঠতে পারে জেনে নিজেই প্রচার চালাতেন, গাড়িটি তাঁর ব্যাংকার বউয়ের জন্য নেয়া। অনেক দূরের ব্যাংকে যাতায়েত করার জন্য।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রীপুর পৌর এলাকার বেড়াইদেরচালা মহিউদ্দিনের জমির রেকড সংশোধন সমস্যার সমাধান করার কথা বলে তিন লাখ টাকা নেয় নাজমুল। কিন্তু টাকা নিয়েও কোন কাজ করে দেয়নি বলে জানান মহিউদ্দিনের নাতি মো.কাউসার আহমেদ।

গত ২৭ আগষ্ট দিবাগত রাতে বিনা গ্রেপ্তারী পরোয়ানায় তেলিহাটি ইউনিয়নের সাইটালিয়া গ্রামের হারুনের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করার চেষ্টা করে। এসময় এসআই নাজমুল ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ হারুণকে আটক করতে ধাওয়া করলে গভীর রাতে অন্ধকারে পড়ে গিয়ে তার বাম পা ভেঙ্গে যায়। দীর্ঘদিন হাসাপাতালে চিকিৎসা নিয়ে অচল জীবনযাপন করছেন হারুন।

পৌরসভার গিলারচালা গ্রামের আসপাডা এলাকায় তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ওই এলাকার মো.সাদ্দাম হোসেন জানায়, সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে কেউ বের হতে পারে না এসআই নাজমুলের ভয়ে। নিরীহ মানুষকে রাস্তাঘাট থেকে ধরে সারারাত গাড়ীতে ঘুরাই। পরে মোটা অংকের টাকা পেলে ছেড়ে দেয়।

নগরহাওলা গ্রামের তরমুজেপার এলাকার মো.আলম জানায়, ভূমিদস্যূদের সহযোগিতায় তাঁর পৈত্তিক সূত্রে পাওয়া জমি বেদখল করতে এলাকাধিকবার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে মিথ্যা মামলা দেয়ার হুমকি দেয় এসআই নামজুল।

উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়নপুর এলাকার সুমন মিয়া জানায়, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় তাঁদের পৈত্তিক সূত্রে পাওয়া কোটি টাকা মূল্যের জমি ডেকো কারখানাকে দখল করে দিয়েছে এসআই নাজমুল।

অনেকে জানান, এসআই নাজমুলের কারণে অনেক ব্যবসায়ী থাকে আতঙ্কে। তাঁদের হয়রানি করা হতো নানাভাবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তটস্থ থাকতেন তাঁর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে। প্রতিদিন নিরীহদের গ্রেপ্তার করে হাজতে ভরতেন। পরে রাতভর দরকষাকষি শেষে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে অধিকাংশ আসামিকে ভোরের আগেই ছেড়ে দিতেন। আর কেউ চাহিদামাফিক ঘুষের টাকার জোগান দিতে না পারলে তাকে মিথ্যা মাদক মামলা দিয়ে চালান করতেন।

এসব বিষয়ে এসআই নাজুমলের সাথে কথা বলতে চাইলে সে জানায়, এগুলো তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যা প্রচার করছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: