জাকির হোসেন, পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় অনুমোদনহীন বরফ মিলের আঁড়ালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশুদের জনপ্রিয় খাবার আইসক্রিম। নিন্মমানের এ আইসক্রিম খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার কোমলমতি শিশুরা। গতকাল বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় পৌরসভার ৩টি বরফ মিলেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি হচ্ছে। আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে গিয়ে দেখা গেছে, বালতিতে মেশানো রয়েছে আইসক্রিম তৈরির জন্য ক্ষতিকারক রং। বাঁশের ঝুড়িতে রয়েছে আইসক্রিম আর অপরিস্কার বালতিতে খালি হাতেই মেশানো হচ্ছে সব ক্ষতিকারক উপকরণ। পানি রাখার হাউসে রয়েছে লবণ মেশানো নোংরা পানি। ঢাকনা দেয়া হয়েছে কাঠ দিয়ে। এমনকি হাউসের ভেতরের পানি অনেক দিন আগের। তৈরিকৃত আইসক্রিম চাঁচ থেকে তুলে ময়লা হাতেই রাখা হচ্ছে বাঁশের তৈরি ঝুড়িতে। এ ছাড়া আইসক্রিম তৈরির কারিগরদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পোশাক নেই। মিলের কারিগরদের পাশাপাশি আইসক্রিম বিক্রেতারাও তৈরি করছেন আইসক্রিম। জুতা পায়ে ঘর্মাক্ত শরীরে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। গুয়াগাঁও বৃষ্টি আইসক্রিম মিলসহ অন্য আইসক্রিম মিলে একই চিত্র চোখে পড়ে। এ ছাড়া পৌর সদরের বাইরে ইউনিয়নগুলোতে গড়ে ওঠা আইসক্রিম মিলের পরিবেশের অবস্থা আরো করুণ। লেবেলের প্যাকেটে ঢাকার নাম বা অনান্য আইসক্রিমের নাম থাকলেও ভিতরে পীরগঞ্জের আইসক্রিম ভরিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত না করলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে আইসক্রিম তৈরিতে তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন করছে না। ফলে শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেই রয়েছে। তৈরিকৃত এ আইসক্রিম বিশেষ করে গরমের সময় কাঠের বাক্সে করে সাইকেল-রিকশায় মাইক লাগিয়ে আকর্ষণীয় প্রচারের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রাম-পাড়ার রাস্তার মোড়ে, হাটবারে এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের সামনে। প্রতিটি আইসক্রিম বিক্রি হয় ৩ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। প্রচন্ড দাবদাহে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও খাচ্ছেন এই আইক্রিম। ফলে প্রতিনিয়তই আমাশয়, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশিসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ নানা বয়সের মানুষ। বিথী আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিক ইউসুফ আলী সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের বিএসটিআইর কোনো অনুমোদন নেই। তবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নভাবে আইসক্রিম তৈরি করার চেষ্টা করব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ ডাব্লিউ এম রায়হান শাহ্ জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি করার অপরাধে ইতোমধ্যে দুই একটি ফ্যাক্টরির মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। পরিবর্তন না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: