দিলরুবা খাতুন, মেহেরপুর প্রতিনিধি-মেহেরপুর পৌরসভা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পৌর এলাকার আবর্জনা সম্পদে পরিণত করতে স্যানিটারি ল্যান্ড ফিল্ড (ডাম্পিং) বা ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম প্রকল্প কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন। পৌর এলাকার প্রতিদিন ৫০ টন আবর্জনা শহরের পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পরিবেশ দূষণের অভিশাপ থেকে মুক্তিদিতেই আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করতে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যা থেকে উপার্জিত হবে প্রচুর অর্থ। প্রকল্পটি অচিরেই আলোর মুখ দেখবে। ২কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দে ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে।
পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাক অফিসের পিছনে ৩ একর জায়গায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল মাটি কেটে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন কালে পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন, মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আযম, সাধারন সম্পাদক ইয়াদুল মোমিন, সহসভাপতি মাহাবুব চান্দু, প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান রিটন, পৌর সচিব তফিকুল আলম, সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল মাজেদ, কাউন্সিলর সৈয়দ আবু আবদুল্লাহ, শাকিল রাব্বি, রাজিব আশরাফ, ঠিকাদার মিজানুজ্জামান অপু, মাহফিজুর রহমান, আওয়ামীলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পল্ট, নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প‘র ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কবির হোসেন লিমিটেড।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল বলেছেন- জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যেসব বিষয়কে দায়ী করা হয় তার অন্যতম হচ্ছে মিথেন গ্যাস। এটি ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র পচার ফলে উৎপন্ন হয়। মিথেন গ্যাস মানুষ ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ গ্যাস সামগ্রিকভাবে কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়েও ২৮ গুণ বেশি ক্ষতিকর। ফলে মিথেন গ্যাস উৎপন্নকারী আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করার কোনও বিকল্প নেই।
পৌর মেয়র মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন- ২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শেষ হলে প্রতিটন আবর্জনা থেকে ৭ থেকে ৮ শ কেজি জৈব সার উৎপাদন করা সম্ভব। এছাড়া প্রতিকেজি আবর্জনা থেকে ০.০৬ ঘনমিটার গ্যাস বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বাষ্প দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনও করা সম্ভব। যা পৌর এলাকার স্ট্রিট লাইট জ্বালানো সম্ভব হবে।
পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান বলেন- পৌর এলাকার আবর্জনা শহরের প্রবশেপথ গুলোর ডোবা নালাতে এতদিন ফেলা হতো। যা পরিবেশ দূষনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু এটি আমরা সম্পদে পরিণত করতে চাই, সে লক্ষ্যে কাজও চলছে। বর্তমানে বিভিন্ন বাসা-বাড়িসহ পৌর এলাকা থেকে দৈনিক কমপক্ষে ৫০ টন আবর্জনা হয়। সে হিসেবে প্রতি মাসে পৌরসভার দেড় হাজার টন আবর্জনা অপসারণ করা হয়।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: