শাহ্ সুলতান আহমেদ, নবীগঞ্জ থেকে ॥ উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ২০/২৫টি গ্রামের লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ওই সকল গ্রামের ঘর-বাড়ীসহ রাস্তাাঘাট, এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুশিয়ার নদীর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এছাড়াও অন্তত ১৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় আশ্রয় কেন্দ্রে। ১৯জুন মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে ওই উপজেলার ইনাতগঞ্জ, ইউনিয়নের মনসুরপুর, দারকাফন, উমরপুর,রাজনগর, মোস্তফাপুর, মোস্তফাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ী এবং দীঘলবাক ইউনিয়নের দীঘলবাক, জামারগাঁও, রাধাপুর, ফাদুল্লা, কুমারকাদা, কসবা, চরগাঁও ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই এলাকার মানুষ পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত শনিবার ঈদের দিন থেকে কুশিয়ারা প্রতিরক্ষা বাঁধের পাহাড়পুর, ঢালারপাড়, হুসেনপুর, জামারগাঁও নিকটে ভাঁঙ্গন এলাকা দিয়ে কুশিয়ারার পানি প্রবেশ করছে। বন্যাকবলিত এলাকার লোকজন ঈদের আগে এমন বিপদে পড়লেও তারা বাড়ি ছাড়তে চাচ্ছেন না। বেশির ভাগ মানুষ কষ্ট করে নিজেদের ভিটে চৌকি বা মাঁচায় অবস্থান করছেন।এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোন সরকারী ত্রান সামগ্রী বিতরণের কোন খবর পাওয়া যায়নি। পাহাড়ি ঢলে নবীগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পান্দিবন্দি রয়েছেন। সিলেটের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন রয়েছে নবীগঞ্জের ভাটি অঞ্চলের মানুষের। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন- বাজার এলাকায় সরকারী নদীর জায়গা প্রভাবশালীরা দখল করে ঘর নির্মাণ অবৈধ স্থাপনা তৈরী করে ব্যবসা পরিচালনা করায় এবং পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামগুলো নদীর বাঁধের পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকাবাসী জানান, তারা সরকারী কোন ত্রান পাননি। পানিবন্দি বেশ কয়েকটি পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র বাস করছেন। এছাড়া প্রায় ১০ টি পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। চরম এই দুর্ভোগে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষনই এখন তারা। এলাকাবাসী প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে পানিবন্দি মানুষের পাশে দাড়ানোর আশায় রয়েছেন। এলাকাবাসী জানান তারা সরকারী কোন ত্রান পাননি। নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডঃ আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন-হাসান বন্যায় কবলিত এলাকাগুলো পরির্দশন করেছেন।অপর দিকে গত সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে খোঁজ খবর নিয়েছেন। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন-হাসান জানান, আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সব কিছু টিক মতো দেয়া হচ্ছে কি না তাহা তদারকি করা হচ্ছে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: