চন্দন কুমার আচার্য, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ
এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের এখনো বাকি পনেরো দিনের মত। তবে এরই মধ্যে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদ বাজারের এই কেনাকাটায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। ঈদের দিন যতোই এগিয়ে আসছে ক্রমান্বয়ে বিক্রি বাড়ছে। তবে পোশাকের দাম তুলনামূলক কম হলেও, মান অনেকটা ভালো, বড় দোকানদারদেরকে এমন ভাববার কোনো কারণ নেই। ফুটপাতে দোকান ভাড়া লাগে না বা কম লাগে বলেই তারা একই পণ্য কমমূল্যে বিক্রি করতে পারছেন বলে জানান ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। বেলকুচির প্রায় প্রায় অর্ধশত স্থানে চলছে ফুটপাতে ঈদের কেনাবেচা। এসবের মধ্যে জমে উঠেছে মুকুন্দগাঁতী বাজার ঈদগাহ মোড়, জলসা রোড, ঢাকা ব্যাংক রোড, সোহাগপুর গার্লস হাই স্কুলের চারদিকের ফুটপাত সামনে ও ফুটে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা।
বেলকুচি উপজেলার মুনন্দগাঁতী বাজারের বিভিন্ন মার্কেটের দোকানে গিয়ে দেখা যায় অনেকটা ব্যস্ততম সময় কাটাচ্ছে দোকানদাররা। তবে দোকানদাররা জানিয়েছেন ক্রেতারা প্রতিদিনই আসছেন তবে জমজমাটভাবে শুরু হয়নি মার্কেটের বেচাকেনা। অন্যদিকে, বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন ফুটপাতে বসা ব্যবসায়ীদের দেখা গেছে কথা বলারও সময় পাচ্ছেন না তারা। কোন কোন ফুটপাতে কথার ঝামেলা এড়াতে বিভিন্ন দামে বেচাকানা করতেও দেখা গেছে। মানুষের ভিড়ে কোথা কোথাও হাঁটতেও কষ্ট হচ্ছে পথচারীদের। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জটলাও। এর একটা কারণও আছে বটে। কেননা, ফুটপাতেই বসে মুকুন্দগাঁতী বাজার অন্যতম বড় ঈদের বাজার। যা বিত্তবানদের জন্য না হলেও নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য অনেকটাই আশীর্বাদ স্বরূপ।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা সাধ্যের মধ্যে সেরাটা খুঁজে নেন এই ফুটপাতের দোকান থেকেই। আর তাতেই পরিবারের চাহিদাও মেটান অনায়াসেই। রমজানের প্রথম দিকে তেমন জমজমাট ছিলোনা এই ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা। এরই মধ্যে পাইকারি বাজার হতে পণ্য কেনার পর পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন ফুটপাতে। আর দু’এক দিন ধরে বেচাকেনায় বেশ জমজমাট জানিয়েছেন ফুটপাতের একাধিক ব্যবাসীয়। জাঁমজমকপূর্ণ আলো ঝলমলে মার্কেটে পোশাকের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষদের একমাত্র ভরসা এই ফুটপাত।
নামীদামী শপিংমলে কেনাকাটার ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ্য না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফুটপাতের দোকানে ছুটছেন নগরীর অনেক মানুষ। নিজেদের আদরের ছেলেমেয়ে বা প্রিয়জনকে ঈদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য কিনে দেন এই ফুটপাত থেকে। কী নেই এই ফুটপাতে? শার্ট, প্যান্ট, জুতা, সালোয়ার, কামিজ, রং-বেরংয়ের থ্রি-পিস, গেঞ্জি, পাজামা-পাঞ্জাবি, টুপি, আতর সবকিছুই রয়েছে ফুটপাতের দোকানে। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যেই।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব বয়সি নারী-পরুষের জন্য রং-বেরংয়ের বিভিন্ন ডিজাইনের জামা-কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ফুটপাতে। ফুটপাতের বাজারে প্রতিনিয়তই ক্রেতারা আসছেন, পছন্দমতো জামা-কাপড় কিনছেন। কেউ কর্মস্থলে যাওয়ার সময় কেউবা ফেরার সময় পছন্দমতো নিজেদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সারছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভিতরের দোকানগুলো তেমন ভিড় নেই। মার্কেটের দোকানদাররা বলেন, মার্কেটের কেনাকাটা জমজমাট হবে বিশ রোজার পর থেকে। তবে এখনো ক্রেতা আসছেন তবে সেটা আশানুরূপ নয়। তবে জমজমাট দেখা গেছে মার্কেটের বাইরে ফুটপাতের বেচাকেনায়। ফুটপাত থেকে আদুরের মেয়ের জন্য গোলফ্রক কিনেছেন আনিছুর রহমান। সকাল থেকে শুরু হয়ে ফুটপাতের এই বেচাকেনা চলে রাত দশটা বা তারও একটু বেশি সময় পর্যন্ত।
একাধিক ফুটপাতের ব্যবসায়ী জানান, ঈদের সময় যতো কাছে আসবে এই বেচাকেনা রাত বারটা ছাড়িয়ে যাবে। মার্কেট ভেদে ছেলেদের শার্ট বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, জিন্স প্যান্ট ৩৫০ থেকে সাড়ে ৭০০ টাকায়, টি-শার্ট ২৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস ৪৫০ টাকা থেকে হাজার থেকে ৮০০ টাকা, বাচ্চাদের থ্রি-কোয়াটার জিন্স প্যান্ট ৩০০ টাকা, গেঞ্জির সেট ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, ফ্রক ও টপস ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য হাতাকাটা গেঞ্জি ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা।
ফুটপাতের দোকানের গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন দোকানীদের ভাষা, তারা বলছেন, দেখেন, দামও কম, জিনিসও ভাল, এ রকম শব্দ শুধু এখানেই নয়, পুরো উপজেলার ফুটপাতের দোকানীদের। মুকুন্দগাঁতী বাজারের ফুটপাতে গেঞ্জির ব্যবসা করেন আলী হোসেন এর মতো অনেক ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।
ঈদকে সামনে রেখে বসে নেই মৌসুমি হকাররাও। বিভিন্ন পণ্য নিয়ে উপজেলার বাজার মুকুন্দগাঁতী বাজারের এ দিক থেখে ও দিকে ছুটছেন একেকজন। কেউ বিক্রি করছেন আতর, টুপি আবার আগামী বিশ^কাপ ফুটবলের পতাকা এবং নামাজ শিক্ষার বিভিন্ন ধরনের বই সামগ্রী।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: