শাহ সুলতান আহমেদ নবীগঞ্জ থেকে ॥ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হাতে এক লন্ডন প্রবাসীর  স্ত্রী ও তার মাকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছেন। লোমহর্ষক এ হত্যান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার রাত প্রায় পৌনে ১১ টার দিকে । ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করে রাত ব্যাপী তদন্ত করে নানা আলামত সংগ্রহ করেন। অপরদিকে তাৎক্ষনিকভাবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে গতকাল সোমবার দিনভর হবিগঞ্জ ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ।এ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। উভয় মরদেহের গায়ে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত রয়েছে। নিহতরা হলেন,ওই গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী মালা বেগম (৫০) ও তার পুত্রবধূ রুমি আক্তার (২৩)। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,ওই উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুলাপুর গ্রামের রাজা মিয়ার পুত্র আকলাক চৌধুরী ওরফে গোলজার মিয়া তিনি দীর্ঘদিন যাবত লন্ডনে বসবাস করছেন। গত প্রায় দু,বছর পূর্বে একই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মোঃ সুজন চৌধুরীর কন্যা রুমি আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তার বাড়িতে শুধু মা মালা বেগম ও স্ত্রী রুমি আক্তার থাকতেন। দিনের বেলায়ও ঘরের সকল গেইটে তালা ঝুলানো থাকতো। গত রোববার রাত অনুমান পৌনে ১১ টার দিকে হঠাৎ গ্রামের লোকজন ,ওই বাড়িতে হৈ হুল্লা শুনতে পান। এতে গ্রামের বিভিন্ন মানুষ ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে দেখতে পান লন্ডন প্রবাসী আকলাক চৌধুরী ওরফে গোলজার মিয়ার বাড়িতে রক্তাত লাশ পড়ে রয়েছে। স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের বাহির থেকে গৃহবধূ রুমি ও ঘরের ভেতর থেকে তার শাশুড়ি মালা বেগমের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।লাশের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এদিকে খবর পেয়ে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.স.ম.শামছুর রহমান ভূইয়া, নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাত প্রায় সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত হত্যাকান্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।নিহত রুমি আক্তারের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, সবসময়ই বোনের বাড়ির লোকজনের খোঁজ খবর নিতেন। ঘটনার রাতে তার বোন রুমি মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জানায় চোঁখে আঘাত পেয়েছে ওষুধ দেয়ার জন্য। পরে বোনের পাশের বাড়ির জনৈক তালেব মিয়ার মাধ্যমে রাত ১০ টার দিকে ওষুধ পাঠান তিনি। এর কিছুক্ষন পর রাত ১১ টার দিকে নির্মম এ ঘটনার পেয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা কয়েকজন স্থানীয় লোক জানান, চিৎকার শুনে তারা বাড়িতে গিয়ে লাশ দু‘টি দেখতে পান। এ সময় ঘরের একটি টেবিলে ৪টি চায়ের কাপও ছিল। ঘটনাস্থল থেকে এক জোড়া জুতা ও ১টি ঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এতে স্থানীয় লোকজন ধারনা করছেন- হত্যাকারীরা ঘটনার পুর্বেই বাড়িতে অবস্থান করে চা চক্র করেছিল। তবে ঘরের কোন মালামাল খোয়া যায়নি বলে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন। এদিকে কোন কারনে পরিকল্পিতভাবে বউ-শাশুড়ীকে হত্যা করা হয়েছে এ নিয়ে চলছে মূখরোচক আলোচনা। ধারনা করা যাচ্ছে, হত্যাকারীরা খুবই পরিচিত। গ্রামবাসী নির্মম এই হত্যাকান্ডের সুষ্ট বিচার দাবী করছেন। অপর দিকে হাসপাতালে লাশের সুরতহাল রিপোর্টের সময় নিহতের শরীরে স্বর্ণের চেইন ও আংটি ছিল বলে জানা গেছে। নিহত রুমি আক্তারের মা রোকেয়া আক্তার তার মেয়ের হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।তিনি স্বামীর বাড়ির লোকজনকে দায়ী করেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে একই গ্রামের আব্দুল সালাম (৬০) শহিদুর রহমান(৩৫) শুভ রহমান(৩০) ও আবু তালেব মিয়া (১৮) নামের লোকজনকে আটক করেছে পুলিশ।এ ব্যাপারে সোমবার প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.স.ম.শামছুর রহমান ভূইয়া বলেন, ঘটনার পরপর বিভিন্ন আলামত সংগ্রহসহ প্রাথমিক তদন্তের কাজ চলছে। খুব শীঘ্রই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

(Visited 1 times, 1 visits today)

সম্পাদক ও প্রকাশক

কাজী জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

ই-মেইল: jahangirbhaluka@gmail.com
নিউজ: bsomoy71@gmail.com

মোবাইল: ০১৭১৬৯০৭৯৮৪

%d bloggers like this: